আধুনিক মোড়কের বিশ্বাসঘাতক এবং একুশ শতকের রাজাকার: ড. ইউনূস ও তাঁর অনুচরেরা
একুশ শতক একুশ শতকই। প্রযুক্তির জয়জয়কার, বিশ্বায়ন আর তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই যুগে সবকিছুই যেন এক লহমায় বদলে যায়। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় আছে যা সময়ের সঙ্গেও তাদের কদর্য রূপ বদলায় না, বরং আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এমনই এক অন্ধকার দিক উন্মোচিত হচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। একদা যিনি বিশ্ব দরবারে ‘গরীবের মুক্তিদাতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তিনিই দেশ ও জাতির এক নিভৃত অথচ মারাত্মক ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে। এই লেখায় আমরা ড. ইউনূসের ‘আধুনিক মোড়কে’ ঢাকা বিশ্বাসঘাতকতা এবং একুশ শতকের ‘রাজাকার’ হিসেবে তাঁর ও তাঁর অনুচরদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করব।
কে এই ড. ইউনূস?
ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাঁর এই উদ্যোগ লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে বলে অনেককেই বিশ্বাস করানো হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্য গল্প, যা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।
বিশ্বাসঘাতকতার শেকড় কোথায়?
এটা কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিভেদ নয়, বরং দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি বিষয়। ড. ইউনূস এবং তাঁর কিছু অতি-উৎসাহী অনুচর, যারা নিজেদের ‘উন্নয়নের কারিগর’ বলে দাবি করেন, তারা আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নকে একটি নির্দিষ্ট বিদেশি এজেন্ডার অধীনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই এজেন্ডা কি, তা স্পষ্ট না হলেও, এর উদ্দেশ্য যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে অনধিকার হস্তক্ষেপ করা, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।
একুশ শতকের রাজাকার কারা?
‘রাজাকার’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে একাত্তরের পরাজিত শক্তিগুলোর কথা মনে পড়ে যায়, যারা দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একুশ শতকে এই শব্দের অর্থ আরও ব্যাপক। যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে নেয়নি, কিন্তু পরোক্ষভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, জাতীয় নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, আন্তর্জাতিক মহলে দেশের সম্মানহানি করে এবং বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার জন্য দেশের সম্পদ বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করে না, তারা একুশ শতকের রাজাকার। ড. ইউনূস এবং তাঁর কিছু অনুচর এই সংজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
গ্রামীণ ব্যাংকের আড়ালে কী?
গ্রামীণ ব্যাংক এবং ড. ইউনূসের অন্যান্য উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রচার করা হলেও, এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে মানুষকে সাময়িকভাবে স্বাবলম্বী করার চেয়ে, এই ব্যবস্থাটি একটি বিশেষ ধরনের নির্ভরতা তৈরি করেছে। উপরন্তু, গ্রামীণ ব্যাংককে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং এর মুনাফার একটি অংশ ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত বা তার ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে রাখা – এই অভিযোগগুলো নতুন নয়।
একটি তথ্যচিত্রের বিস্ফোরণ:
সাম্প্রতিক সময়ে, একটি বিশেষ তথ্যচিত্র (Documentary) ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের উপর আলোকপাত করেছে এবং অনেকের চোখের পর্দা খুলে দিয়েছে। এই তথ্যচিত্রটি ড. ইউনূসের কিছু গোপন আর্থিক লেনদেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্যচিত্রের কিছু অনুসন্ধানী দিক:
বিষয় তথ্যচিত্রের দাবি
ক্ষুদ্রঋণের আসল উদ্দেশ্য দারিদ্র্য বিমোচনের চেয়ে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক মডেল চাপিয়ে দেওয়া, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নষ্ট করতে পারে।
বিদেশি প্রভাব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি সরকারের সঙ্গে ড. ইউনূসের গভীর সম্পর্ক, যা বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে তাদের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করে।
আর্থিক অনিয়ম গ্রামীণ ব্যাংক এবং তাঁর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থের অস্বচ্ছ লেনদেন এবং এর একটি অংশ ব্যক্তিগত বা অপর কোনো এজেন্ডার জন্য ব্যবহার।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের অভিযোগ, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারে।
“শান্তির নোবেল” এর আড়ালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পেছনেও কিছু অস্বচ্ছতা এবং বিশেষ মহলের সমর্থন থাকার ইঙ্গিত।
‘গরীবের বন্ধু’ থেকে ‘জাতীয় শত্রু’:
এক সময়ের ‘গরীবের বন্ধু’ এখন কেন ‘জাতীয় শত্রু’ হয়ে উঠছেন, তার কারণগুলো স্পষ্ট। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের নামে আসলে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, তখন তাদের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এখন যে অভিযোগগুলো উঠছে, তা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
একটি উদ্বেগজনক উক্তি:
একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, “ড. ইউনূসের মডেলটি বাহ্যিকভাবে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে। তিনি গরিবকে ঋণ দিয়ে মুক্তি দেননি, বরং একটি নতুন ধরনের দাসত্ব তৈরি করেছেন।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং নীরবতা:
এটাও লক্ষণীয় যে, যে সকল গণমাধ্যম একসময় ড. ইউনূসের জয়গান গাইত, তারাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে বা সেগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। এটি এক ধরনের সচেতন নীরবতা, যা এই ষড়যন্ত্রের গভীরতাকেই নির্দেশ করে।
আর্ন্তজাতিক মহলের ভূমিকা:
কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি, যারা বাংলাদেশের উন্নয়নের নামে তাদের নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরি করতে চায়, তারা ড. ইউনূসের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই শক্তিগুলো চায় বাংলাদেশ যেন তাদের হাতের পুতুল হয়ে থাকে, এবং ড. ইউনূস তাদের সেই লক্ষ্য পূরণের একটি হাতিয়ার।
একবিংশ শতাব্দীর রাজাকারতন্ত্র:
একুশ শতকের রাজাকারতন্ত্র কেবল সশস্ত্র প্রতিরোধ নয়, বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এর বিস্তার। ড. ইউনূস এবং তাঁর অনুচরেরা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নতুনভাবে রাজাকারনীতির জন্ম দিয়েছেন। তারা মেধাকে ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায় করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছ
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত এখন সময়ের দাবি। দেশের সাধারণ মানুষের উচিত এই বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা। ‘আধুনিক মোড়কে’ ঢাকা এই বিশ্বাসঘাতকতা এবং একুশ শতকের রাজাকারদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রেখে, দেশের উন্নয়নকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর এজেন্ডার হাতে তুলে না দিয়ে, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, “জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বড় কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই।”
Please support us by visit and share your comments on : https://bdrealissues.blog/ and https://daily-nobojug.com/






লেখাটি পড়ে মনে হলো যুক্তির চেয়ে আবেগ এবং পক্ষপাতই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে; তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থাকলে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হতো।
লেখক শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন—এজন্য পুরো লেখাজুড়ে নিরপেক্ষতা অনুপস্থিত।
ড. ইউনূসের সমালোচনা করতে গিয়ে লেখক বারবার অতিরঞ্জিত উপমা ব্যবহার করেছেন, যা বিষয়টিকে গবেষণামূলক লেখার বদলে প্রচারমূলক মনে করায়।
এত গুরুতর অভিযোগ তুলে লেখক কোনো নির্দিষ্ট বা যাচাইযোগ্য সূত্র দেননি—এটি লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে।
লেখাটিতে বারবার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য আরোপ করা হয়েছে, কিন্তু সেসব অনুমানের ভিত্তি কোথায় তা পরিষ্কার নয়।
রাজাকার’ শব্দের মতো সংবেদনশীল শব্দ অনায়াসে ব্যবহার করায় মনে হয়েছে লেখকের লক্ষ্য পাঠককে আবেগে উত্তেজিত করা, যুক্তি নয়।
তথ্যচিত্রের কথা বলা হলেও তার নির্ভরযোগ্যতা, নির্মাতা বা উৎস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি—যা প্রশ্ন তৈরি করে।
লেখাটির ভাষা এতটাই আক্রমণাত্মক যে এতে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা সম্ভব হয়নি; এটি আলোচনার মান কমিয়েছে।
ড. ইউনূসের কাজের যেসব ইতিবাচক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে, সেগুলো উপেক্ষা করে শুধু নেতিবাচক ব্যাখ্যা দেওয়ায় লেখাটি একপেশে হয়েছে।
পুরো লেখায় প্রমাণের চেয়ে অভিযোগের সংখ্যা বেশি—এটি বিশ্লেষণধর্মী লেখার স্বাভাবিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।
বিদেশি এজেন্ডার মতো গম্ভীর দাবি তুললেও লেখক কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি, যা পাঠকের কাছে সন্দেহ তৈরি করে
ব্যক্তিকে সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু চরিত্রহননের মতো শব্দচয়ন লেখকের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
গরিবকে দাসত্বে আবদ্ধ করা”—এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত বড় দাবি, যা প্রমাণ ছাড়া বলা দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে হয়।
ড. ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযোগ তুললেও কোনো অডিট, রিপোর্ট বা গবেষণা উদ্ধৃত করা হয়নি।
পাঠকের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—যদি লেখকের বক্তব্য সত্য হয়, তাহলে প্রমাণ কোথায়? লেখাটি এই মৌলিক প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা করা সম্ভব—কিন্তু লেখকের ব্যবহৃত ভাষাগত তীব্রতা বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য বিশ্লেষণের পরিধির বাইরে নিয়ে গেছে।